1. admin@shadin-bd.com : admin :
  2. unews.mahmud@gmail.com : Mahmud hasan : Mahmud hasan
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ -
জয়া আহসানের ফেরেশতে ইরানে পুরস্কৃত কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ  স্বাধীনতার ৫৩-বছর পর শহিদ বুদ্ধিজীবীর স্বীকৃতি পেলেন স্কুল শিক্ষক কড়িহাতা বাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে মহান শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা কিশোরগঞ্জে ভৈরবে পলিথিন কারখানার তিন মালিক কে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা ইউএনওকে বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পার হলেও পাইকগাছায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন শহীদ মিনার

আমি এক ব্যর্থ শিবির থেকে বলছি

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৭৪ বার পঠিত

আমি এক ব্যর্থ শিবির থেকে বলছি

“You are just your intelligence. তুমি ঠিক তাই, যা তুমি কল্পনা করো।” কল্পনা চাওলার এই উক্তিটি তাদের জন্য যারা স্বপ্ন দেখে সফলতার। প্রত্যেক মানুষ ব্যর্থ হয় সফলতার ঠিক দ্বারপ্রান্তে এসে। হতাশা প্রত্যেক স্বপ্নবাজ মানুষের জীবনে চরম ভাবে আকড়ে ধরে। যারা হতাশাকে জয় করতে পেরেছে তারাই সফল হয়েছে।

আমি মোসাঃ সুইটি আক্তার। আমার সফলতা-ব্যর্থতার সংক্ষেপ ঘটনা বলব আজকে। আমার স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হব আমার পিতা মাতা আত্মীয়-স্বজন সবাই আমাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখত আমি ডক্টর হব। আমি স্কুলে ফার্স্ট গার্ল ছিলাম সব সময় তাই সবাই আমাকে নিয়ে আরও বেশি স্বপ্ন দেখতো আমার ধারণা। সবার স্বপ্নের মাঝে আমার স্বপ্নও কেমন যেন ডাক্তার হওয়া কেন্দ্রিক হয়ে উঠলো। আমার স্বপ্ন এমন ছিল আমি মানুষকে সেবা করব, সেটা যেভাবেই হোক। আমার শ্রদ্ধেয় পিতাও এই স্বপ্নটাই দেখতো, মানুষের সেবা করা।

মাধ্যমিক পরীক্ষায় যখন গোল্ডেন A+ পেলাম তখন বাড়ির মানুষ খুশি হওয়ার সাথে সাথে স্বপ্ন পূরণের জন্য বাড়িতে ত্যাগ করার ব্যবস্থা করল। নতুন ঠিকানা হলো গাজীপুর মহিলা কলেজ হোস্টেল। আমি সদ্য গ্রাম থেকে শহরের পরিবেশে যাওয়া একজন মেয়ে। তাই আমি সেখানে মানিয়ে নিতে পারিনি। আমার কাজটা সঠিকভাবে করতে পারেনি। দিন শেষে খুব কান্নাকাটি করতাম ভাবতাম আমি ব্যর্থ। কিন্তু আল্লাহর রহমতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও A+ পেয়ে উত্তীর্ণ হলাম।

শুরু হলো আমার নতুন সংগ্রামী পথচলা। আমাকে উত্তরায় মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা হল। আমাকে যে প্রাইভেট হোস্টেলে রেখেছিল সেটা আমার জীবনে অন্যরকম একটা প্রভাব ফেলেছিল। সেখানকার খাবার এত বাজে ছিল যে সেটা খাওয়ার উপযোগী ছিল না। হাতে সময় ছিল না তাই পরিবর্তন করাও সম্ভব হয়ে উঠছিল না, বাধ্য হয়েই আমাকে থাকতে হলো সেখানে। আমার মায়াবী বাবা আমাকে খাবার রান্না করে বড় বাটিতে করে দিয়ে আসতো প্রতি সপ্তাহে, সাথে অনেকগুলো করে শুকনা খাবার দিয়ে আসতো। সেগুলো খেয়েই সপ্তাহ পাড় করতাম।

অনেক জড়তার মাঝেও আমি আমার সাধ্যমত পরিশ্রম করে গেছি। কোচিং এ পরীক্ষা দিয়ে তিনবার পুরস্কার পেয়েছিলাম, তাই আত্মবিশ্বাসটা অনেক জোড়ালো ছিল। ফাইনাল ভর্তি পরীক্ষায় আমার পরীক্ষার কেন্দ্র অনেকটা দূরে পড়েছিল। যানবাহনগত সমস্যা আমাকে অনেকটাই নার্ভাস করে দিয়েছিল। পরীক্ষার হলে বসলাম, উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর এত বেশি নার্ভাস ফিল করেছিলাম আমার জানা উত্তরগুলো গুলিয়ে ফেলেছিলাম, মাথা পুরো এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। পরীক্ষায় আমি সফল হতে পারলাম না, খুব কাছাকাছি গিয়েও আমাকে ব্যর্থ হতে হল। খুব কান্নাকাটি করলাম, নিজের উপর বিরক্ত লাগতে শুরু করল। অনেক আজেবাজে চিন্তাও মাথায় আসেছে। আমার বাবা আমাকে কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে প্রতি মাসে আট হাজার করে টাকা দিত, আমার জন্য অনেক কষ্ট করে খাবার নিয়ে আসতো, অনেক পরিশ্রম করেছে আমার জন্য। আমি তাকে কিছুই দিতে পারলাম না। আমি এই মুখ কিভাবে দেখাবো, তাকে দেখানোর মুখ আমার নেই। আত্মহত্যা মহাপাপ তাই সিদ্ধান্ত নিলাম দুইচোখ যেদিক যায় চলে যাব। রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম রেল স্টেশনে। একটা ট্রেনে ওঠে চলে যাবো অজানা কোন দেশে। যেখানে কেউ আমাকে চিনবে না। আমার বান্ধবীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে আমাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনলেন ‘মিনহাজ সাহেব’। অনেক বুঝিয়ে আমাকে নিয়ে এলেন।

‘মিনহাজ সাহেব’ আমার আরেকজন অভিভাবক যার কথা না বললেই নয়। আমার প্রত্যেকটা ভুল সিদ্ধান্তকে সঠিক সিদ্ধান্তে পরিণত করার মানুষ মিনহাজ সাহেব। আমি বারবার ভেঙে পড়েছি এসব পরিস্থিতিতে যেগুলো আমার মা-বাবার কাছে বলতে পারিনি সেখানে তিনি আমার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আমার জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। তিনি আমাকে সেদিন বলেছিলেন শুধু ডক্টর হয়ে মানুষের সেবা করা যায়? আরো অনেক মাধ্যম আছে তুমি সেগুলো করো, বিভিন্ন সেক্টর আছে সেগুলো করতে পারো। নার্সিং করেও তো মানুষের সেবা করতে পারো। হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

আমি অনেকটা হতাশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাবাকে বললাম নার্সিং এর কথা। বাবাও আমাকে অনুপ্রেরণা দিলেন। আমি অন্য কোন ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিনি। আমার আকাঙ্ক্ষা জাগলো আমার শহরে আমি নার্সিং করব। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভালো মেরিট পজিশন নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ নার্সিং কলেজ গাজীপুরে ২০২২-২৩ সেশনে ভর্তি হলাম। শুরু হলো আমার স্বপ্ন পূরণের পথে চলা, মানুষের সেবা করবো এই প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমার অভিভাবকরাও আমার সাথে আছেন আগে যেভাবে পরিশ্রম করতেন এখনো করছেন। আমার বাবার ঋণ আমি কখনোই পরিশোধ করতে পারব না তাই ঋণী হয়েই বাবার কাছে ভালোবাসা চাই। আমার বাবা ক্ষমা করে দিবে এই আশা করি।

আমি এখন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ নার্সিং কলেজের একজন বিএসসি নার্সিং স্টুডেন্ট। আমি নিজেকে ব্যর্থ ভাবি না, আমি সফল। মানুষের সেবা করবো এটাই আমার সফলতা, আমার বাবার সফলতা। সমাজের লোক কিভাবে মূল্যায়ন করবে সেটা আমি কখনো গ্রাহ্য করি না। কারণ ‘আমি শুধু আমিই’। আল্লাহ আমাকে কবুল করুক।

 

লেখক 

সুইটি আক্তার

শিক্ষার্থী, শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ নার্সিং কলেজ,গাজীপুর।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ স্বাধীন বিডি
Theme Customized By Shakil IT Park