1. admin@shadin-bd.com : admin :
  2. shadinbd@gmail.com : shadin : Nazmul Mondol
রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ -
গাজীপুরে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার, প্রতিবাদে মানববন্ধন। মুরাদনগরে গাঁজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। চাঁদপুর মতলবে ২০০৩ সালের এস এস সি পরিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ পূর্নমিলনী ২০২৪। ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফারুক হোসেন মৃধা। কাওরাইদ বাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আশরাফুজ্জামান মামুন শ্রীপুরে জোরপূর্বক জমি দখল, আহত-৩ সুপারম‍্যাক্স হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সাথে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত কলকাতা স্টাইলে কাতল মাছের মধুক্ষীরা! স্কুলে ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের আটকাতে হবে প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসি “ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিএমএস বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সমাপনী  প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত

গোয়াইনঘাটে এক চিকিৎসকের হাতে ০৬জনের মৃত্যু:অর্থের আড়ালে অধরা চিকিৎসক।

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৫৪ বার পঠিত

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গুরুকচি বাজারে দ্যা সেবা ফার্মেসির চিকিৎসক আখলাকুল আম্বিয়ার ভুল চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনে ৫মাসের শিশু সহ্ ৬ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

০৩ সেপ্টেম্বর গত শুক্রবার গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের নিজধরগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা আনিছ মিয়ার ৫ মাসের শিশু রিফাত আহমদ জ্বর ও বমিতে আক্রান্ত হলে রিফাতের মা সারমিন বেগম অসুস্থ শিশুকে নিয়ে নিকটস্থ গুরুকচি বাজারে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার আফতাব উদ্দিনের শরণাপন্ন হয়।ডাক্তার আফতাব রোগী দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা/ওষুধ দিয়ে নিয়মিত খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। ওষুধ খাওয়ানোর পর ৫মাসের শিশু রিফাতের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে,আগের ওষুধ সাথে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরের দিন ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে গুরুকচি বাজারের দ্যা সেবা ফার্মেসীতে ডাক্তার আম্বিয়ার শরণাপন্ন হন।ডাক্তার আম্বিয়া অসুস্থ শিশুকে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর অসুস্থতার কোন কারণ না জানিয়েই আগের ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ সেবনে নিষেধ দিয়ে তা ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে নিজের মতো করে চিকিৎসা প্রদান করেন ডাক্তার আম্বিয়া, তিনি ৫মাসের শিশুকে নিজ ফার্মেসীর এন্টিবায়োটিক খাওয়ার সিরাপ ও রিফাতের শরীরে একটি ইনজেকশন দেন এবং পরবর্তী ৭ মিনিট পরপর এন্টিবায়োটিক সিরাপ ও অন্যান্য ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন।অসুস্থ শিশু রিফাতের মা ও তার স্বজনেরা চিকিৎসা শেষে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফিরে তার পরামর্শ অনুযায়ী ৭ মিনিট পরপর ওষুধ খাওয়াতে থাকেন, প্রথম ওষুধ খাওয়ানোর পর রিফাত কান্না চেচামেচি করে, পরের ওষুধ খাওয়ানোর পর রিফাত নড়াচড়া করা বন্ধ করে দেয়, এর কিছুক্ষণ পরেই রিফাত একটি চিৎকার মেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তবুও রিফাত বেঁচে আছে মনে করে মৃত রিফাতকে নিয়ে ফের ডাক্তার আম্বিয়ার কাছে যান তার স্বজনেরা,ফার্মেসীতে গিয়ে ডাক্তার আম্বিয়াকে না পেয়ে রিফাত কে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন।গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সিতে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে মৃত রিফাতকে নিয়ে তার মা সারমিন বেগম ও তার শ্বশুর গোয়াইনঘাট থানায় আসেন।থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ জানালে থানাপুলিশ রিফাতের মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য রেখে দেন এবং তার চিকিসা পত্রসহ্ মৃত্যুর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে তাকে সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।পরে রিফাতের মা,ও আত্মীয়দের পরামর্শে ডাক্তার আম্বিয়া’র বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন গোয়াইনঘাট থানায়।
এ ঘটনার জানাজানি হলে পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার আম্বিয়া টাকা দিয়ে একটি চক্রকে থানায় তদবির শুরু করেন,এ ঘটনার ধামাচাপা দিতে একটি চক্র মরিয়া হয়ে স্বজনহারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বুঝাইতে থাকেন এবং অর্থ দিয়ে সহযোগিতার লোভ দেখিয়ে মামলায় বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ সহ্ কোর্ট আদালতে হয়রানির বিষয়ে ভয়ভীতি দেখান। হতদরিদ্র রিফাতের বাবা আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সারমিন বেগন থানায় ছেলে রিফাত হত্যার অভিযোগ দিয়ে একটি দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে অভিযোগটি সেচ্ছায় আপোষ করেন।পরে অভিযুক্ত ভুয়া ডাক্তার আখলাকুল আম্বিয়া শিশু রিফাতের মৃত্যুর দায় শিকার করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পা ধরে ক্ষমা চান এবং বলেন আমার ভুল হয়ে গেছে,এই ভুলের জন্য আপনারা আমাকে জেল কাটাতে পারবেন বা আদালতের মাধ্যমে ফাঁসিও দিতে পারবেন! কিন্তুু যে রিফাত মারা গেছে সে তো আর ফিরে আসবে না।রিফাত বড় হয়ে আপনাদের কামাই করে খাওয়াতো, রিফাতের বদলে আমি আপনাদের গোলাম হয়ে থাকবো সারাজীবন আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেন।পরে অপচিকিসক আম্বিয়া তার পূর্বের বিভিন্ন ঘটনার সহযোগী দালাল চক্রদের মাধ্যমে রিফাতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনার ধামাচাপা দেন।

ভুল চিকিসায় ৫ মাসের শিশু রিফাতের মৃত্যু ও দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে অধরা ডাক্তার আম্বিয়ার এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলে যায় একটি অনুসন্ধানী টিম।ঘটনাস্থলে গিয়ে রিফাতের মা সারমিন ও চাচা রিফাতের ঘটনায় উপরোক্ত তথ্য জানান।

ডাক্তার আখলাকুল আম্বিয়া’র ভুল চিকিৎসায় শিশু রিফাতের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এই ডাক্তারের অতীতের একাধিক ভুল চিকিৎসার সন্ধান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুরুকচি বাজারের এক ব্যবসায়ী ও অতীতের ভুক্তভোগীরা জানান, ডাক্তার আম্বিয়া শুধু শিশু রিফাতকেই নয় তিনি এর আগে আরো ৪/৫জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, এসকল ঘটনার কোন মামলা হয় নি।কারণ চিকিৎসার অভিজ্ঞতা না থাকলেও তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি, তিনি ঘটনা ঘটলেই সাথে সাথে টাকা ছেড়ে দেন একটি চক্রের হাতে আর অর্থ দিয়েই এসকল ঘটনা ঢেকে রাখা হয়।

ডাক্তার আম্বিয়ার ভুল চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত রিফাত সহ্ যাঁরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।
জানা যায়,২০০৫ সালে গুরুকচি বাজারের মেইন রাস্তা সংলগ্ন ফার্মেসী থাকাকালীন।
১/ রুস্তমপুর ইউনিয়নের দারীখাই গ্রামের পূর্ব পার, পিতা আং মালিকের ছেলে জাহাঙ্গীর ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।
২/গত ৫বছর আগে জথনাতা গ্রামের এবাদুর রহমানের শিশু ছেলে আখতারুজ্জামান ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।
৩/তুকইর গ্রামের লালার বাড়ির ছাইনুলের ৫ বছরের শিশু ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।
৪/তুকইর গ্রামের এবাদুরের ছেলে ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।
৫/গুরুকচি গ্রামের ফয়জুর রহমানের মেয়ে ও আব্দুল জলিলের স্ত্রীকে ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।সর্বশেষ রিফাত সহ্ ৬জনের মৃত্যু হয়েছে এক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায়।

রিফাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার আখলাকুল আম্বিয়া প্রতিবেক কে জানান, আমি চিকিৎসা দিয়েছি তার রোগ অনুযায়ী। মারা গেছে তার হায়াত নেই হয়তো, আমি তার মৃত্যুর দায় নিবো কেন? টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া এবং রিফাতের মৃত্যুর দায় শিকার করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।পূর্বের ৫টি ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন,যা শেষ হয়ে গেছে তা নিয়ে কথা বলতে চাইনা।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০১৮ স্বাধীন বিডি
Theme Customized By Shakil IT Park